শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নগরকান্দায় সাংবাদিক লায়েকুজ্জামানের স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত | ফরিদপুর সংবাদ  গোপালপুর ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়াঁ আদায় | ফরিদপুর সংবাদ  বোয়ালমারীতে এতিম শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষাপোকরণ ও অর্থ সহায়তা | ফরিদপুর সংবাদ  ফরিদপুরে ‌বই ঘাটার উদ্যোগে ‌ সাঁতার ষষ্ঠ প্রকাশনা সমাবেশ অনুষ্ঠিত | ফরিদপুর সংবাদ  নগরকান্দায় গ্রন্থ মেলা পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক | ফরিদপুর সংবাদ  সালথায় “ভাষা দিবস সিক্স-এ-সাইউ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্টিত | ফরিদপুর সংবাদ  ফরিদপুরে আলো প্রজ্জ্বলন করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করলো বন্ধুসভা  | ফরিদপুর সংবাদ  ফরিদপুরে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও নগরকান্দায় দু’দিন ব্যাপী বই মেলার উদ্বোধন | ফরিদপুর সংবাদ  দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় হাইওয়ে পুলিশের ব্যতিক্রম উদ্যোগ | ফরিদপুর সংবাদ  ফরিদপুরে খেলাঘরের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান | ফরিদপুর সংবাদ 

তিন বন্ধুর ইতালি যাত্রা : পথে দুই জনের মৃত্যু,বেঁচে ফেরা এক বন্ধুর রোমহর্ষক বর্ণনা | ফরিদপুর সংবাদ 

শফিকুল খান জনি, নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০২২
  • ১৯৫ Time View

ফরিদপুরের নগরকান্দার কাইচাইল গ্রামের তিন বন্ধু। পাশের গ্রামের দুই প্রবাসী দালালের সঙ্গে চুক্তি হয় ৩০ লাখ টাকায়। দালালদের খপ্পরে পড়ে তাদের হাতে তুলেও দেন ২৪ লাখ টাকা। লিবিয়ায় একটি ঘরে বন্দি হন তিন বন্ধু। পরে নৌকায় সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় দুই বন্ধুর। মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছেন ফরিদপুরের নগরকান্দার কাইচাইল গ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে সামিউল শেখ (২১)। তিন বন্ধুর মধ্যে সামিউল একাই মায়ের কোলে বেঁচে ফিরেছেন। নৌকাডুবিতে মারা যাওয়া দুই বন্ধু হলেন, বাবুর কাইচাইল গ্রামের ফারুক মাতুব্বরের ছেলে ফয়সাল মাতুব্বর (১৯) ও মাজেদ মিয়ার ছেলে নাজমুল মিয়া (২২)।

মৃত্যু থেকে বেঁচে ফেরা সামিউল দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তৃতীয়। বড় ভাই শাহিন শেখ (২৮)। বড় বোনের (২৬) বিয়ে হয় ছয় বছর আগে। ছোট বোন (১৪) নগরকান্দার একটি মাদ্রাসায় পড়ে। সামিউল সরকারি নগরকান্দা মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। বিদেশে যাওয়ায় তাঁর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।

সেদিনের সেই রোমহর্ষ বর্ণনা দিয়েছেন সামিউল শেখ।

সামিউল শেখ বলেন,গত বছরের ১৪ নভেম্বর আমরা তিন বন্ধু ইতালি যেতে প্রথমে ঢাকায় যাই। ঢাকার কাকরাইলে আল-হেলাল বোর্ডিংয়ে তিন দিন থাকি। সেখান থেকে ১৭ নভেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ে যাই। সেখানে দালাল শওকতের ভাই জুয়েল মাতুব্বরের কাছে পৌঁছাই ১৮ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর বিমানে লিবিয়ায় পৌঁছাই। লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যেতে স্পিডবোটে ২৭ জানুয়ারি রওনা দেই। এরপর ইতালি যেতে প্রথমে আমাদে জাহাজে তোলার জন্য লিবিয়ার জোয়ারা ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন আমাদের সঙ্গে ছিলেন অলিদ নামের এক দালাল। ঘাটে নিয়ে তাদের জাহাজের পরিবর্তে ২০ জন ধারণক্ষমতার একটি স্পিডবোটে অস্ত্রের মুখে জোর করে তোলা হয়। স্পিডবোটে ২ জন চালকসহ মোট ৩৭ জনকে তোলা হয়। প্রায় আট ঘণ্টা চলার পর হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসে মাঝারি আকারের স্পিডবোটটি উল্টে যায়। সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে চালক ও আমার এক বন্ধু ফয়সাল মাতুব্বরসহ ২৯ জন ভেসে যান। আটজনের মধ্যে আমি ও আরেক বন্ধু নাজমুল স্পিডবোটের একপাশ ধরে থাকি। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর আমার এক বন্ধু নাজমুল ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায়। এরপর আমরা সাতজন বোটের অন্য পাশে ভাসতে ভাসতে তিউনিসিয়া সীমান্তে চলে যাই। তখন আমাদের শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। এভাবে প্রায় ১১ ঘণ্টা ভাসতে থাকি। এরপর কিছু দূরে একটি জাহাজ দেখে আমাদের মধ্যে ফারুক নামের একজন একটি লাল গেঞ্জি উঁচু করেন। জাহাজটির লোকেরা আমাদের দেখতে পেয়ে তিউনিসিয়া সীমান্ত থেকে উদ্ধার করেন। জাহাজে তুলে তাঁরা আমাদের নির্যাতন শুরু করেন। লাথি মারতে থাকেন। এসময় জাহাজে আরেক সহযাত্রী রাশেদুল নামের একজন মারা যান। ২ জন বোট চালকসহ মোট ৩৭ জনের মধ্যে বেঁচে ফেরেন মাত্র ৬ জন। জীবিতরা হলেন, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের ইউসুফ মৃধা, একই জেলার নালিখা গ্রামের ইয়াসিন, বেলাব থানার ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাকির, মাদারীপুরের ইউনুস ও নগরকান্দার সামিউল শেখ।

সামিউল শেখ বলেন, ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছয়জনকে লিবিয়ার জাউইয়া ঘাটে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় জাউইয়া জেলে। সেখানে তিন দিন (৩১ জানুয়ারি) পর্যন্ত থাকি। পরে খামছাখামছিন জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন্দী থাকতে হয় ১ মাস ২৮ দিন। জেলে সকাল এগারোটার দিকে ১০০ গ্রামের একটা রুটি এবং রাত এগারোটায় আরেকটি রুটি দেওয়া হতো। ওখানে রুটি নাম খুবজু। খুবজুর সাথে প্রতিদিন দুই বেলা পানির বোতলের ছিপি মেপে ২ থেকে ৩ ছিপি পরিমাণ পানি খেতে দেওয়া হতো।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) থেকে যোগাযোগ করা হয়। আইওএম আমাদের দেশে ফিরে আসার ব্যবস্থা করে এবং ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে আসার পর বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রত্যেককে ৪ হাজার ৭৮০ টাকা দেয়। আমরা ২ মার্চ ঢাকায় ফিরে আসি। এক সপ্তাহ বিমানবন্দরের পাশে হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিন থাকার পর ১০ মার্চ বাড়িতে ফিরে আসি।

দালাল রাসেল ও শওকত মাতুব্বর লিবিয়ায় অবস্থানকারী নরসিংদীর দালাল মনির শীলের কাছে আমাদের বিক্রি করে দেন। পরে মনির শীল লিবিয়ার দালাল অলিদের কাছে বিক্রি করে দেন।

মৃত্যর মুখ থেকে দেশে ফেরা সামিউল শেখ অভিযোগ করে আরও বলেন, অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ির সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের মধ্যে দেশে আছেন দুজন। আর লিবিয়ায় দুজন। দেশের দুই দালাল হলেন নগরকান্দার কাইচাইল ইউনিয়নের ছোট নাওডুবি গ্রামের হান্নান মাতুব্বরের ছেলে শাহিন মাতুব্বর (৪১) ও মৃত শামসুদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে ইলিয়াস মাতুব্বর (৩৯)। আর লিবিয়ার দুজন হলেন ছোট নাওডুবি গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে শওকত মাতুব্বর (২৫) ও চানু মাতুব্বরের ছেলে রাসেল মাতুব্বর (৩৫)। চার বছর ধরে তাঁরা লিবিয়ায় থাকেন।

এ ঘটনায় ফয়সালের বাবা ফারুক মাতুব্বর বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি ১০ জনকে আসামি করে মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন।

এ ব্যাপারে মামলার নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পীযূষ কান্তি দে বলেন, মামলার আসামি হান্নান মাতুব্বর,তাঁর ছেলে তুহিন মাতুব্বর ও আসামি কাজল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!

Advertise

Ads

Address

Office : Room#1002, Kanaipur, Faridpur, Dhaka. Mobile : 01719-609027, Email : faridpursangbad.com
© All rights reserved 2020. Faridpur Sangbad

Design & Developed By: JM IT SOLUTION