বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সালথায় “ভাষা দিবস সিক্স-এ-সাইউ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্টিত | ফরিদপুর সংবাদ  ফরিদপুরে আলো প্রজ্জ্বলন করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করলো বন্ধুসভা  | ফরিদপুর সংবাদ  ফরিদপুরে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও নগরকান্দায় দু’দিন ব্যাপী বই মেলার উদ্বোধন | ফরিদপুর সংবাদ  দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় হাইওয়ে পুলিশের ব্যতিক্রম উদ্যোগ | ফরিদপুর সংবাদ  ফরিদপুরে খেলাঘরের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান | ফরিদপুর সংবাদ  একুশের প্রথম প্রহরে শহিদ মিনারে লাবু চৌধুরী এমপির শ্রদ্ধা নিবেদন | ফরিদপুর সংবাদ  চরভদ্রাসনে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪ পালিত | ফরিদপুর সংবাদ  সদরপুরে জাটকা সংরক্ষণে অভিযান অব্যাহত | ফরিদপুর সংবাদ  প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেবে না জনগন-জসীম পল্লী মেলার সমাপনীতে মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী | ফরিদপুর সংবাদ  ফরিদপুরে ‌বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ‘পিতা’ এবং ‘মুজিব মঞ্চ’ এর উদ্ধোধন | ফরিদপুর সংবাদ 

অরুণ আমার ছেলেবেলার বন্ধু – নিত্য ঘোষ | ফরিদপুর সংবাদ 

নিত্য ঘোষ
  • Update Time : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৯৩ Time View
অরুণ বোস (কানু) বড় অসময়ে আমাদের ছেড়ে দিকশূন্যপুর চলে গেল। বাল্যকাল থেকে ও আমার প্রতিবেশী, বন্ধু এবং আত্মীয়।ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে চলে গেল।
 প্রথম শ্রেণীর কথা ভালো মনে নেই, দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে বন্ধু হলাম। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য আমাদের চারজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো । রাধিকা মিত্র, অরুণ বোস, নিত্য ঘোষ ও জীবন ভৌমিক এই চারজন।
কৃষ্ণনগর গ্রামের মালিবাধা পাড়ার বসু পরিবার শিক্ষাদীক্ষায় পরিশীলিত প্রগতিশীল পরিবার বলে খ্যাত। গ্রামের বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে শহরে পড়তে যাওয়া এবং সেই পরিবেশেই পরবর্তী জীবন গড়ে তোলা এটা জীবন সংগ্রামের প্রাথমিক পাঠ। সেই প্রাথমিক পাঠ থেকে মহাবিদ্যালয়ের পাঠ পর্যন্ত সবার মত আমার কাছেও খুব মূল্যবান সময়। খেলাধুলা করার একটা প্রাণবন্ত সময়ও কাটিয়েছি আমরা।
প্রাথমিক বিদ্যালয় পেরিয়ে মাধ্যমিক, মাধ্যমিক থেকে মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক আন্দোলন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা এগিয়ে নেওয়ার অংশীদার হওয়া, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া-আমরা সবাই একসঙ্গে লড়তাম।
অরুণ ছিল অসামান্য বুদ্ধিধর আনন্দময় মানুষ । গ্রামেই হোক আর শহরেই হোক যে কোন আড্ডায় অরুণের উপস্থিতি এক আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হতো। একবার ফরিদপুর শহরে তপন বসুদের বাড়িতে আমরা কয়েকজন একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করব বলে বসেছি, কিছু বিষয়েমতের মিল না হওয়ায় একটু জোরের সাথে তর্ক বিতর্ক হচ্ছে, কেউ থামছে না ।হঠাৎ বেশ ভারী গলায় গান, অরুণ গেয়ে উঠলো-
” অনেক দিনের আমার যে গান /আমার কাছে ফিরে আসে/ আমি তারে শুধাই তুমি/ঘুরে বেড়াও, কোন বাতাসে ঘুরে ঘুরে।”
এক নিমেষেই থেমে গেল সব গন্ডগোল । গানের শেষে ফিরল আলোচনার পরিবেশ। এই হল অরুণ, অসাধারণ অভিব্যক্তি। ভেবেছিলেম ওকে নিয়ে আমরা ক’জন নিজেদের মতো করে একটা সারাদিনের আড্ডায় মাতবো, তার নাম দেব তারুণ্যময় অরুণোদয় ।
“কত জল বইছে পদ্মায়
কত অহংকারী মেঘ,বৃষ্টি ঝড়,
দিন করেছে কালো
কে কার হিসেব রাখে বল,
আজ সব ভুলে
উচ্চে তুলে ধরি অরুণ আলো।।”
অরুণ কে নিয়ে লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছে অনধিকার চর্চা করছি না তো? অরুণ প্রয়াত, লিখবো সে ক্ষমতা আমার নেই। কিছু স্মৃতি আছে। স্মৃতি সতত সুখের।
একবার গোপালদি এলাকার ফুটবল মাঠে ফুটবল খেলা- সেমিফাইনাল গেম। নাইন সাইড খেলা হবে। দলীয় চারজন প্লেয়ার-ই অসুস্থ। কি হবে! সবাই মিলে ঠিক হল বাইরের থেকে চারজন প্লেয়ার আনতে হবে। অরুণের উপর দায়িত্ব দেয়া হল। খেলা কৃষ্ণনগর বনাম পরমানন্দপুর”। গ্রামের সব লোকজন খেলা দেখার জন্য মাঠে হাজির, সময় হয়ে এলো কিন্তু প্লেয়ার এখনো এলোনা । টিম ক্যাপ্টেন নারায়ণ গুহ পাগলের মত ছোটাছুটি করছে। বিপক্ষ দল মাঠে নেমেছে। রেফারি বাঁশী বাজাচ্ছে। আয়োজকদের কাছে পনর মিনিট সময় নেয়া হলো, মাঠে দর্শক চিৎকার করছে। কিন্তু কোন খবর নেই। দুই মিনিট বাকি, চারজন বাদে সব প্লেয়ার মাঠে নেমেছে। রেফারি বাঁশী বাজালো। খেলা শুরু হতে হতেই দেখা গেল পুরো টিম মাঠে । কৃষ্ণনগর ৩-১ গোলে জয়ী হল। পরে দেখা গেল তিনজন ছিল বাইরের, একজন অরুণ নিজেই। এমনি অনেক ঘটনার মধ্যে আরও একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। ১৯৬৫ সালের কাছাকাছি সময়। সঠিক সন এখন ঠিক মনে করতে পারছি না। আমরা ১২-১৫ বছরের ক’জন ঠিক করেছি পিকনিক করবো। তখন আমাদের গ্রামের সবার বাড়ির ছেলেমেয়েদের কঠিন শাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলতে হতো।
তখন সবার বাড়িতে মুরগীর মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল না । সরস্বতী পুজোর পর ছুটিতে সবাই মিলে ঠিক করলাম আমরা মুরগীর মাংস আর ভাত দিয়ে পিকনিক করব, যে কথা সেই কাজ। কিন্তু ভয় অনেকের বাড়ির কর্তা এটা মেনে নেবেন না। তাই আমাদের গোপন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হল। এক্ষেত্রেএগিয়ে এলো অরুণ, ওঁর বাড়ীতে এর প্রচলন ছিল। আমরা আগের দিন সব জিনিস পত্র জোগাড় করে পরের দিন সকাল দশটার মধ্যে বারোয়ারী তলার জঙ্গলে মুরগীর মাংস সহযোগে দারুণ উৎসাহে পিকনিক করে ফিরলাম। এর শীর্ষ নেতৃত্ব ছিল অরুণের। আর এটাই ছিলো আমাদের জীবনে স্বাধীন ভাবে নেয়া বড় এবং প্রথম পদক্ষেপ।
গল্পকার অরুণকে দেখেছি, দেখেছি সাংবাদিক অরুণ কে, কত সহজ মনের মানুষ ছিলো। ভালোবাসার অতলান্ত ঢেউ আমাদের সকলকে এক বাঁধনে বেঁধেছে। এখনও মনে করিয়ে দেয় সুখের দিন গুলি, প্রাণখোলা হাসি, উদাত্ত কণ্ঠে গান। ‘কখন বাবলুকখনও কানাইদের বা আবার কখনও রঙ্গলাল সাহার-চা এর দোকান।প্রাণ প্রাচুর্যে ভরা এক বড় মাপের মানুষ, সকলের সাথে, এক সারিতে বসে আনন্দ বিলিয়ে দেয়া।
মনেই হত না এ মনের বাইরে আছে কঠিন জগত।পড়াশোনা শেষ না হতেই পিতৃ বিয়োগ, ভাতৃ বিয়োগ, দুঃখের পসরা।মাথায় জীবন সংগ্রামে ব্রতী।প্রতি জীবনে চড়াই-উৎরাই আছে। ওর জীবনও তেমনি।অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিল অনেক, কতটা কাজে লাগাতে পেরেছে আমার জানা নেই,জীবনে চলার পথে মিথ্যাচারিতা এবং সুবিধাবাদের লেশমাত্র দেখিনি। কাজের নিষ্ঠাবোধ, পরিশ্রমী হয়ে ওঠাই আদর্শবাদী বানিয়েছিল অরুণকে। কত যুদ্ধের স্মৃতি ভরে আছে ওর জীবন।আমরা এখন শূন্য হৃদয়ে ফেলে যাওয়া দিনগুলোতে বিলি কেটে খুঁজতে থাকি ওর ভোম্বল থেকে নীলাঞ্জন রায়কে, ওর গল্পের নায়ককে।
একজন মানুষ তার মানবিক সত্তাকে অতিক্রম করে যখন বিরাট হয়ে ওঠে তখন সমাজের বিভিন্ন স্তরের বা পেশার মানুষ তাকে আশ্রয় স্থল ভাবতে শুরু করে, নিজের অজান্তেই হয়ে ওঠে এক বৃহত্তর সমাজের অভিবাবক ।অরুণ তাঁর ভাবনাচিন্তা, তাঁর জীবনযাপন, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিপর্যয়ে তাঁর ভূমিকা, সর্বোপরি অন্যকে আশ্রয় দেওয়ার দুর্লভ ঔদার্য তাকে উপনীত করেছিল অভিভাবক স্তরে।ও এমন এক সত্ত্বা, মনে হয় সে আমাদের কল্পনার চেয়েও বৃহৎ, আদর্শের চেয়েও মহৎ। এই মহান গুণগুলোর মধ্যেও কিছু দোষ তো ছিলই, তার বড় দোষ এই যে মনের নরম ভাবটা প্রাণে প্রাণে ঢেকে রাখত, ওর নিজের জীবনের দিকটা পুরোপুরি অপ্রকাশিত। এর জন্য কষ্ট প্রচুর হয়তো তার ।মন যত নরম দুনিয়া ততটা নয়।তার বৃত্তের অনেকাংশেই সুবিধাবাদে ভরা যা তাঁর কাম্য নয়। অরুণ ছিল হৃদয় তাড়িত আবেগমথিত মানুষ ।সেই অরুণ নেই। এই অভাববোধ কাটতে বহুদিন লাগবে। ঈশ্বর থেকে বেশি বিশ্বাস ছিল তাঁর মানুষে, হাজারো প্রশ্ন ভেতরে ভেতরে নিঃসঙ্গ করেছিল তাকে।
বসন্তের শেষে এক সুন্দর সকাল, ঘরের পর্দা সরানো, বাইরে সবুজ ঘাসের বুকে অজস্র ঘাস ফুল, ঠোঁটে সিগারেটের ধোঁয়া, বাইরের দিকে নিবিষ্ট চোখ। চায়ের কাপ থেকে কু-লী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠছে ।সকালের প্রিয় পানীয় ভ্রুক্ষেপ নেই। বললাম চা খাবিনা? যেন ভাবনার অতল সাগরে ভাসতে ভাসতে হঠাৎ বলে উঠলো- বাহ কি সুন্দর জগৎটা! কেন মানুষ সৃষ্টি হল? সুন্দর মুগ্ধ হচ্ছি, আমি বললাম এই তুই,আমি- সুন্দরেই মোহিত হচ্ছি, মানুষ না থাকলে কি করে হত! বলল ঠিক বুঝলি না, তুই যা ভাবছিস তা জীবনের শেষ দিকের ভাবনা, নে তুই চা খা, সাথে প্রিয় ওমলেট। তখনো জানিনা আর দেখা হবেনা।
মনে পড়ে গেল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জ্যোতিপাত কবিতা –
“আমি মগ্ন হতে চাই ছায়া স্রোতে,
অস্তিত্বের ধূসর দীক্ষায়
তবে কি ঈশ্বর স্তবে ফিরে যাব-
অলৌকিক রহস্য ভিক্ষায়?”
ফরিদপুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা আমাদের জীবনের আরেক অধ্যায় , প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজ্জাক সাহেব জেলাবোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী,অন্যান্যদের মধ্যে অধ্যাপক আবদুস সামাদ, অধ্যাপক আ ন ম, আবদুস সোবাহান, প্রফেসর মুহম্মদ আজিজল হক খান, শ্রী নৃপেন্দ্রনাথ সিংহ রায়, গনেশ গুহ, ম. সামসুল হক, আতাহার হোসেন, অরুণ বোস, তপন বোস, দেবব্রত দাস(কানাই), অমল ঘোষ আরও অনেকে যাদের সঠিক ভাবে সাজাতে পারছিনা, যেমন- সেলিম আলফাজ, হোসেন সোহরাব, আহমদ কামাল রইসী প্রমুখ। সংস্থা প্রথম বার আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা করে এবং এই পুরস্কার বিজয়ী হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুহেনা মোস্তাফা কামাল ।কাব্য গ্রন্থ -*আপন যৌবন বৈরি” এই বিশাল অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যুবশক্তির খুব প্রয়োজন ছিল। অরুণের উপর কিছু দায়িত্ব বর্তে ছিল। গোয়ালচামট সাংস্কৃতি চক্রের সদস্যরা মিলে অরুণকে সহযোগীতা করেসেই দায়িত্ব উত্তরণের গুরুভার মুক্ত করেছিল। এখানে প্রতি সপ্তাহেই একটা করে কবিতা পত্র প্রকাশিত হত, তার কিছু সম্পাদনার দায়িত্ব অরুণ পেয়েছিল এবং তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছিল। সাপ্তাহিক যুবশক্তি পত্রিকার প্রচারের একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল অরুণের । গোয়ালচামট সাংস্কৃতিক চক্রের হয়ে প্রচুর কাজ করতে হতো ওকে।
অবশেষে “প্রথম আলো” দৈনিকের কাছে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয়ে আমাদের অনেক উঁচুতে তুলে দিয়ে অরুণ বোস (কানু) আমাদের থেকে চিরবিদায় নিয়েছে।
সময় সোপানে যে পথ
বিলি কেটে কেটে, বিলি কেটে কেটে
“ভোম্বল থেকে নীলাঞ্জনে” পৌঁছে গেলি
কি পেলি বল, সব ছেড়ে গিয়ে কি পেলি?
শব্দ আর জীবন, জীবন আর শব্দ
একাকার করে হারিয়ে যাওয়া
হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বর শুনি
অবাক করা কণ্ঠস্বর।
তুই জানতিস
অনন্ত চলার পথে
বাঁচার গৌরবই শেষ কথা।
কি করলি এত ভালোবাসা বিলিয়ে
রাতের আকাশে অজস্র প্রদীপ জ্বালিয়ে
ছেড়ে গেলি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
কি পেলি তুই, কি পেলি?
বেঁচে থাকার আকড় ফেলে কোথায় গেলি,
কত কথা বলার ছিল
কত কিছু বলার ছিল তোকে
কি কথা বলবো তোকে ভাবিনি
তোকে নিয়ে কবিতা লিখবো ভাবিনি
তোকে নিয়ে কবিতা লিখবো ভাবিনি
তোকে নিয়ে…
কানুর এ শূন্যস্থান আমাদের পূরণ হবার নয়। ওঁর আত্মার শান্তি প্রার্থনা করি এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!

Advertise

Ads

Address

Office : Room#1002, Kanaipur, Faridpur, Dhaka. Mobile : 01719-609027, Email : faridpursangbad.com
© All rights reserved 2020. Faridpur Sangbad

Design & Developed By: JM IT SOLUTION